1. admin@bazzrokolom.com : bazzrokolom.com :
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

মোবাইল না পেয়ে কিশোর-কিশোরীর আত্মহনন, চিন্তিত দরিদ্র অভিভাবকরা

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি: মোবাইল না পেয়ে কিশোর-কিশোরীর আত্মহনন, চিন্তিত দরিদ্র অভিভাবকরাচলমান করোনা পরিস্থিতিতে টেলিভিশন বা মোবাইলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে চলছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া।

এই সুযোগে অনেক শিক্ষার্থী দামি মোবাইল দাবি করছে বাবা-মায়ের কাছে। কিন্তু অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারণে অনেক বাবা-মা মেটাতে পারছেন না সন্তানের দাবি। এতে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে অনেক জায়গায়।

এমন ঘটনা ঘটছে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায়ও। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে এ উপজেলায় আত্মহত্যা করেছে দুই কিশোর-কিশোরী।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, চিতলমারী সরকারি এসএম মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র শয়ন হালদার (১৪)। গত ৩১ আগস্ট আত্মহত্যা করে সে। আধুনিক সুবিধাগুলো আছে এমন একটি মোবাইল ফোন দাবি সে কিছুদিন ধরে করে আসছিল মা-বাবার কাছে। কিন্তু দরিদ্র বাবা-মা তার সেই দাবি মেটাতে পারেননি। এতে হতাশায় ভুগছিল সে। একপর্যায়ে সে তার বাবার পরনের থান কাপড় গলায় পেঁচিয়ে বসতঘরের আঁড়ায় ঝুলে আত্মহত্যা করে।

উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের সমীর হালদারের দুই সন্তানের মধ্যে শয়ন হালদার ছিল বড়। গত বছর তার ছোট বোন পুকুরে ডুবে মারা যায়। শয়নের মৃত্যুর ব্যাপারে থানায় ইউডি মামলা হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ আগস্ট আধুনিক মোবাইল ফোন না পেয়ে অভিমানে আত্মহত্যা করে একই উপজেলার নবম শ্রেণির ছাত্রী নিপা মজুমদার (১৫)। করোনাভাইরাসের কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে সে বাড়িতে বসে লেখাপড়া করতে চেয়েছিল। কিন্তু দরিদ্র বাবার পক্ষে দামি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়া ছিল অসম্ভব। একপর্যায়ে সে বাড়ির পেছনের দেবদারু গাছের ডালে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। নিপা গরিবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। উপজেলার খড়মখালী গ্রামের বুদ্ধিমন্তম  মজুমদারের তৃতীয় সন্তান সে।

চিতলমারী থানা পরিদর্শক (ওসি) মীর শরিফুল হক বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় চঞ্চলমতি কিশোর-কিশোরীরা বাড়িতে একাকিত্ব বোধ করছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেকে চালিয়ে যেতে চায় লেখাপড়া। ফলে আধুনিক মোবাইল ফোনের প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে ওঠে।

ওসি আরো বলেন, কিশোর-কিশোরীরা মা-বাবার কাছে তাদের প্রয়োজনের কথা জানায়। না পেলে মনে রাগ, অভিমান হয়। যা হয়তো ঝগড়াতেও রূপ নেয়। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে  আত্মহত্যা করে। ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা থেকে মানুষের মনে অপরাধ প্রবণতা সৃষ্টি হয়। আত্মহত্যা করা অপরাধ। এটি  সবাইকে মনে রেখে সবাইকে ধৈর্য্যধারণ করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায় মাল্টিকেয়ার